দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ইস্যু করা ২৬টি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা পরিষদের তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল, বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম। পার্থ সারথী পাল বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েল এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
পরে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, ২৬টি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা যুক্ত করে চেকের পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে টাকার বানানের অংশেও পরিবর্তন করা হয়। তবে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েলে এসব পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ না থাকায় হিসাব পর্যালোচনার সময় অনিয়মটি ধরা পড়ে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ সর্বশেষ এ ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। মার্চ মাসে পার্থ সারথী পাল ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে বদলি হওয়ার পর আর এমন কোনো ঘটনার তথ্য মেলেনি।
এ ঘটনায় ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেন।
ফেনীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. দিদারুল আলম বলেন, এটি আদালতের বিষয়। অভিযুক্তরা অপরাধী প্রমাণিত হলে তাদের ন্যায়বিচারের আওতায় আনা উচিত।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, চেক জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য দিয়েছেন। হিসাব-সংক্রান্ত নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট চেক এবং ব্যাংকের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে আই